কবিতা  | গুচ্ছকবিতা

শিমুল সালাহ্উদ্দিনের পাঁচটি কবিতা

সন্দেহছন্দ

সন্দেহ করিতেছি, তাই আছি
সন্দেহ করিতেছো, তাই আছো
মনেরে সন্দেহ করিতেছে দেহ
দেহের ভাস্কর্য আহা! মূঢ়মতি
প্রয়োজনীয় সন্দেহে বাঁচে
ভগবতীদের মহান নিয়তি!
সামনে রাখিয়া বিষধর সাপ
খালি হাতে খেলা!
পাপ।
তব সন্দেহছন্দে হাত ভরে যাক
মম অস্তিত্ব মোদের প্রকাশিত থাক!

অবনত মুখের সকাল

ভোর নয়, সন্ধ্যাও না
অথচ কুয়াশাকালি চারিদিকে
আমরা ফিরছি বাড়ি
মাথায় গতকালের নেশা
আগামীকালের প্ল্যান-
আমরা বাড়ি ফিরছি
আমাদের কোলে তুলতুলে শাদা
খরগোশ, বুকের ভেতরে ও শিরায়
ধাবমান কালচে লাল-
যে যার নিজের বিশ্বাসের
গম্বুজে ছাওয়া ঘরবাড়ি নিয়ে
আমরা বাড়ি ফিরছি
হঠাৎ পথ ফেটে চৌচির-
দশদিক ভরা ঘনবনে
যে যেদিকে ফিরে তাকাই
ঘাড়ের ওপরে নখদাঁতময়
শ্বাপদের নিঃশ্বাস, লালাক্ষার-
পথ নেই কোনো আর
নিজেদের কামনার
কবর অগ্রাহ্য করে ভাবছি
মাতৃটান আত্মার শিকড়
যতই শুকিয়ে যাক
আর বাড়ি ফেরা হবে না।
যেখান থেকে গমনাগমের
কোন পথ নেই, নেই পথের
নিশানা এবং শব্দ ও স্বর
তার নাম কেবল কবর
হতে পারে-
কবরে দাঁড়িয়ে আমরা ভাবছি
সময় ও আলোকবর্তিকা
বিষয়ক একটি কবিতা-
আচমকা হঠাৎ
ফিসফিস হাওয়ায়
পাতার মর্মর ভেসে এলো
আমরা কান পাতলাম-
তৈরি হলো পথ, হাঁটতে হাঁটতে ভোর,
উঁকি দিচ্ছে সূর্য; লাল-
আমাদের দুঃস্বপ্ন থেকে জন্ম নিলো
নির্বিকার এক অবনত মুখের সকাল।

বর্ষণ

বিভাবিদ্যুতে ফেটে ফেটে যাওয়া আকাশ
নেমে এলো প্রবলতোড়ে বর্শাবল্লমফলা
ফোঁটা ফোঁটা-
ছিটকে, মাটিতে পড়েই টেনে আনলো পাতাল থেকে
সোঁদাঘ্রাণ, ওম-জড়ানো বীজ ও মুমূর্ষুশ্বাস গন্ধপুরাণ
বাতাসে বাতাসে-
পাতাদের দেশে দেশে নিরুপায় জলকেলি স্নান-উৎসব
খঞ্জরের মতো যদি এভাবেই ভেঙে পড়তে প্রকৃত বুকে!
এভাবেই ভেঙে ভেঙে পড়তে আর গলে যেতে
সোঁদাকাদাগন্ধমাখাকামজলে-
নিফাটা আকাশ তবে মুহুর্মুহু বিজলীঠমকেও, খুঁজে পেতো ঠিকই
নেশালু গমকÑ চুষবার মতো কোনো সুডৌল বর্তুলবোঁটাÑ
তুমি আর ভিজতে ভয় পেতে না!

লিপি

শিলালিপি কথা ক’ও, আমাকে উড়তে দাও তোমার ডানায়
উড়ে দেখি একবার পৃথিবীর মায়াজাল থেকে মেলে কি না নিস্তার!
কী ব্যাজস্তুতি! মলাটবদ্ধ ভাষারা চেয়েছে ছুটি, অথচ আকাশ রজস্বলা,
ভুল করে লোকে, রক্তপতনের শব্দকে বৃষ্টিগান বলা…
এদিকে, একা দাঁড়িয়ে আগুনে আমার লাশ-
সম্বল বলতে পোড়াকাঠ আর অযতœ নদীর হাওয়া
আবার জন্মাতে ভয় হয়, পোড়া বুক চিরে দিকশূন্যপুরের দিকে
উড়ে গেছে যে অন্ধ চিল, তাকে এনে ডেকে
কী লাভ শুনিয়ে দুপুরের রূপকথা!
শিলালিপি, আমার পাশে একক মরণ, নীলবসন, সুন্দর—

পড়তে পড়তে

পড়তে পড়তে আমরা কেবল নিচের দিকে যাই
পাঠ মানে কী পতন তবে? পাঠ মানে কী ছাই!
পড়তে পড়তে আমরা কেনো নিচের দিকে যাই?

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





মন্তব্য করুন

আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে নিচের মন্তব্য-ফর্ম ব্যবহার করুন করুন: